দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নির্মাণ, কৃষি ও হালাল পণ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড। দেশটি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পঞ্চম দেশ হিসেবে যুক্ত করতে চায়। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের শ্রমবিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মী নিয়োগের নীতিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী থাইল্যান্ডের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৈতিক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কর্মী নিয়োগের প্রাথমিক খরচ নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি, ন্যায্য মজুরি, আবাসন, চিকিৎসা বিমা ও কর্মীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডে দক্ষ জনশক্তির চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশে বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তি রয়েছে। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কম খরচে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য তিনি থাই প্রতিনিধিদলকে আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, নির্মাণসহ বিভিন্ন ‘ব্লু কলার’ কাজের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের ‘হোয়াইট কলার’ পেশার জন্যও বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। তবে কর্মীদের অধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে দুই দেশকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
থাইল্যান্ডের শ্রমবিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, বর্তমানে চারটি দেশের সঙ্গে কর্মী নিয়োগে থাইল্যান্ডের চুক্তি রয়েছে। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটি থেকে নির্মাণ, হালাল কারখানা ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় পঞ্চম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে তারা আগ্রহী।
বৈঠকে থাই প্রতিনিধিদল ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্মীদের অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এসব সমস্যা যৌথভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
থাই পক্ষের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্বেগ দ্রুত সমাধান করে অচিরেই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।
বৈঠকে থাই প্রতিনিধিদলের ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক, ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক ও যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/